শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন
আবুল বশর পারভেজ-মহেশখালী
মহেশখালীতে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা উপ বৃত্তির টাক (নগদ) এজেন্ট ও শিক্ষক মিলে লোপাটের অভিযোগে একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্যারা শিক্ষক ও নগদের এজেন্ট কে আট করে থানায় সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।
মোবাইলে নগদ একাউন্টের গোপন পিন নাম্বার পরিবর্তন করে চক্রটি শিশু শিক্ষার্থীদের বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে দাবী করেন ভূক্তভোগি অভিভাবকগণ।
ঘটনাটি ঘটেছে ১২জুন মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের তাজিয়াকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
আটক শিক্ষকরা হলেন খণ্ডকালীন শিক্ষক আবু ফয়সাল (২৫) এবং নগদ মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন (২৩)।
করোনা কালিন বন্ধকে পুজি করে এ স্কুলের সহকারী শিক্ষকদের বিতরণ কাজ থেকে বিরত রেখে প্রধান শিক্ষক আটক দুইজন কে উপবৃত্তির টাকা বিতরনের দায়িত্ব দেয়।
তারা দুইজন পারস্পরিক যোগসাজসে শিশু শিক্ষার্থীদের মোবাইল একাউন্টের টাকা আত্মসাত করে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় জনতা ২জনকে মহেশখালী থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আটককৃতদের নিকট থেকে হাতিয়ে নেওয়া ৬৪ হাজার ৫০০ নগদ টাকা উদ্ধার করে।
ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় প্রতারনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে।
অভিভাবকদের অভিযোগ প্যারা শিক্ষক আবু ফয়সাল ছাত্রছাত্রীদের উপবৃত্তির টাকা পেতে সহায়তার দায়িত্বে নিয়োজিত করে। কমিটি বা প্রধান শিক্ষক কেন সহকারী শিক্ষকদের দায়িত্ব না দিয়ে প্যারা শিক্ষকদের এ কাজে নিয়োজিত করেছিল। সুদুর হোয়ানকের পানিরছড়া এলাকা থেকে ফয়সাল কে কুতুবজোমে এনে দায়িত্ব দেওয়ার সুবাদে তিনি মোবাইল ব্যাংকিং এর এজেন্ট মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সহযোগিতায় গোপন পিন নাম্বার ব্যবহার করে শতাধিক শিক্ষার্থীর টাকা আত্মসাৎ করেছে।
ওসি মো. আবদুল হাই বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত উপবৃত্তির টাকা প্রদান করছে সরকার। একটি নির্দিষ্ট গোপন পিন নাম্বারে সেই টাকাগুলো পৌঁছে দেয়া হয়। এখানে শিশু, শিশুর পিতা-মাতার আবেগ জড়িত রয়েছে। কিন্তু কোমলমতি শিশুদের টাকাগুলো আত্মসাতের ফন্দি করে একটি চক্র।
ওসি আব্দুল হাই জানান,প্রাথমিক ভাবে যে টাকা উদ্ধার হয়েছে তাদের মোবাইলে আরো কিছু টাকা থাকতে পারে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওসি সরকারের উপবৃত্তির টাকা দেওয়ার মাধ্যম ‘পিন নাম্বার’ যেন কাউকে না দেয়, সে বিষয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ করেন।
২০২০সালের জুলাই-ডিসেম্বর ২সেমিস্টারের জন্য ঐ স্কুলে ৬৮৩জন শিক্ষার্থী ৯০০টাকা করে টাকা পাওয়ার কথা। একই পরিবারে ৩জন শিশুর জন্য টাকা তুলতে গিয়ে সিন্ডিকেট সদস্যরা তাদের কে পিন কোট ভূল দেয়,বিভিন্ন কাল ক্ষেপন করে। পরে ঐ শিক্ষার্থীর অভিভাবক গোরকঘাটায় অপর একটি এজেন্টের দোকানে তার টাকা উত্তোলন করার পর ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়।
২০২০শিক্ষা বর্ষে মহেশখালীতে ২৩,২৮৬জন শিক্ষার্থী ৬মাসের জন্য ১,৯৫,৯৪১২৫ টাকা বরাদ্ধ রয়েছে। উপবৃত্তি বিতরনের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্কুল ভিত্তিক বেশ কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র থাকতে পারে বলে ধারনা করছে সচেতন মহল।
পূর্বে সরাসরি বিতরনের অনিয়মটি দ্রুত প্রকাশ পেত। এখন তলে তলে অতি গোপনে বিপুল পরিমান টাকা নয়-ছয় করে তুলে নিচ্চে সংশ্লিষ্টরা।
গ্রামের সাধারন অশিক্ষিত অভিভাবকদের চোখে ফাঁকি দেয়ে, জন্ম নিবন্ধনের অযুহাতে অনেকের টাকা পাওয়া যাবে না বলে ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ অনেক প্রতিষ্টানের শিক্ষকদের বিরোদ্ধে।
এ ব্যাপারে মহেশখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকিরুল হাসান জানান,এই প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে নগদে টাকা বিতরনে অনিয়মের বিষয়টি।সৃষ্ট ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ এ প্রতিষ্টান প্রধানদের আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহবান জানান।
ভয়েস/জেইউ।